September 29, 2026, 4:37 pm

প্রতীকী ছবি

তাড়াশে গুদামে সার মজুত, কৃষকের কাছে চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের শস্যভান্ডারখ্যাত তাড়াশ উপজেলায় রোপা আমন মৌসুমে সারের সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি নির্ধারিত দামে সার না পাওয়ার অভিযোগ করছেন কৃষকেরা। তবে অভিযোগ রয়েছে, বেশি দাম দিলে কিছু ডিলারের গুদাম থেকে ঠিকই মিলছে সার। এ অবস্থায় ডিলারদের বিরুদ্ধে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

কৃষকদের অভিযোগ, প্রতিবছর রোপা আমন, বোরো ও সরিষা মৌসুমে একটি চক্র কৌশলে সারের সংকট তৈরি করে। পরে কৃষকদের জিম্মি করে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হয়।

উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের পেঙ্গুয়ারি গ্রামের কৃষক বেলাত মণ্ডল পাঁচ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, সরকারি দামে কোনো সার পাননি। বাধ্য হয়ে বস্তাপ্রতি ১ হাজার ৮৮০ টাকায় টিএসপি, ১ হাজার ৬৫০ টাকায় ইউরিয়া এবং ১ হাজার ৫০০ টাকায় পটাশ কিনেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক নেতারা নির্ধারিত দামে সার পেলেও সাধারণ কৃষকদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।

আসানবাড়ি গ্রামের কৃষক মো. মাসুদ মণ্ডল ৪০ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। তিনি জানান, সারের সংকট ও অতিরিক্ত দামের কারণে এখনো কোনো জমিতে সার প্রয়োগ করতে পারেননি।

একই গ্রামের কৃষক ছানা উল্লাহ ১ হাজার ৯০০ টাকায় এক বস্তা টিএসপি কিনে বাড়ি ফিরছিলেন। সারটি কোন ডিলারের কাছ থেকে কিনেছেন জানতে চাইলে তিনি নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। তাঁর আশঙ্কা, ডিলারের নাম জানালে ভবিষ্যতে বেশি দাম দিয়েও সার পাওয়া যাবে না।

খানপাড়া এলাকার কৃষক আবু তালেব খান বলেন, ১০০ বিঘার বেশি জমিতে আবাদ করতে প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে তিনি ডিলারদের কাছে অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

তবে উপজেলা কৃষি বিভাগের দাবি, ডিলারদের কাছে বর্তমানে কোনো সার মজুত নেই।

এর মধ্যে সরেজমিনে উপজেলার বিনসাড়া বাজারে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অনুমোদিত ডিলার মেসার্স তানভীর এন্টারপ্রাইজের গুদামে প্রায় এক হাজার বস্তা সার মজুত থাকার চিত্র দেখা যায়। সেখানে কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করতেও দেখা গেছে।

অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির কারণ জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. আবদুল ওয়াহাবের ছেলে জাহিদ হাসান কোনো সদুত্তর না দিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে তাড়াশে ১ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ হচ্ছে। সরকারি নির্ধারিত মূল্যে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা টিএসপি ১ হাজার ৩৫০ টাকা, ইউরিয়া ১ হাজার ৩৫০ টাকা এবং পটাশ ১ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। উপজেলায় বিসিআইসির ১২ জন, বিএডিপির ১৭ জন এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ৭২ জন সাব-ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণের নিয়ম রয়েছে। এর বাইরে খোলাবাজারে সার বিক্রির সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএ) তাড়াশ উপজেলা শাখার সভাপতি মো. আমিরুজ্জামান বলেন, ডিলারের গুদামে সার থাকলে তা অবশ্যই সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করতে হবে। সংকট দেখিয়ে সার মজুত করে রাখা এবং বেশি দামে বিক্রি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) তাড়াশ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আবদুর রাজ্জাক রাজু অবৈধভাবে সার মজুত করা গুদামে অভিযান চালিয়ে সার জব্দ এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের মধ্যে বিতরণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলেরও দাবি জানান তিনি।

সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা বলেন, অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির সুনির্দিষ্ট তথ্য খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) এবং তাড়াশের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সরেজমিন তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা